চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) মার্কিন অর্থনীতিতে পুনরুদ্ধারের গতি প্রাথমিক প্রতিবেদনের তুলনায় বেশি শক্তিশালী ছিল। ওই সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য বিবাদজনিত অনিশ্চয়তা বিদ্যমান ছিল বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতিতে। এর মাঝেও ভোক্তা ব্যয় বাড়ায় এ প্রবৃদ্ধি এসেছে। খবর সিএনএন।
মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত দ্বিতীয় প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জুনে শেষ হওয়া প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রথম প্রতিবেদনে এর হার ছিল ৩ শতাংশ।
সর্বশেষ হিসাব বলছে, প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) দশমিক ৫ শতাংশ সংকোচনের পর মার্কিন অর্থনীতি জোরালোভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। জিডিপির এ হিসাবে অর্থনীতিতে ঋতুভিত্তিক পরিবর্তন ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, এ সময় মার্কিন অর্থনীতির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জুড়ে ছিল ভোক্তা ব্যয়। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে বার্ষিক হারে ভোক্তা ব্যয় বেড়েছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ, যা আগের প্রতিবেদনে ছিল ১ দশমিক ৪ শতাংশ।
একই প্রতিবেদনে ব্যবসায়িক বিনিয়োগের তথ্য বড় আকারে সংশোধন করা হয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনের ১ দশমিক ৯ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। ব্যবসায়িক ব্যয়ের বড় অংশজুড়ে ছিল মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত পণ্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন অর্থনীতিতে দ্বিতীয় প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা রেখেছে বাণিজ্য ও ভোক্তা ব্যয়। কিন্তু অর্থনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ চালকগুলোর গতি কমতে শুরু করেছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান ন্যাশনওয়াইডের বিশ্লেষক ওরেন ক্লাচকিন বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রথম ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার পর এবং অর্থনীতির গতি কমে আসায় আমরা বছরের দ্বিতীয়ার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশের নিচে নেমে আসবে বলে আশা করছি। দুর্বল শ্রমবাজার ও শুল্কজনিত মূল্যস্ফীতি বছরের শেষ নাগাদ অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে সীমিত করবে।’
অর্থনীতিতে বিদ্যমান চাহিদা বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো বাস্তব চূড়ান্ত বিক্রি (রিয়াল ফাইনাল সেলস)। দেশীয় ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা কী পরিমাণে পণ্য ও সেবা কিনেছেন এর ভিত্তিতে সূচকটি পরিমাপ করা হয়। প্রথম প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে এর হার ছিল ১ দশমিক ২, সংশোধনের পর তা হয়েছে ১ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে বিশ্লেষক ক্লাচকিনের মতে, এ সংশোধন আগের হিসাব থেকে আলাদা কোনো চিত্র দেখাচ্ছে না।
এদিকে মার্কিন শ্রমবাজারের অবস্থা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ওয়াল স্ট্রিট ও ফেডারেল রিজার্ভ। মার্কিন শ্রম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির প্রবৃদ্ধি অস্বাভাবিকভাবে দুর্বল রয়েছে। ২০২০ সালের মহামারীজনিত মন্দার সময়টিকে বাদ দিলে মে-জুলাই তিন মাসে মাসিক গড় চাকরি বৃদ্ধির হার ছিল ২০০৯ সালের পর সবচেয়ে দুর্বল।